আজকাল দিন দিন মাস্টার কার্ডের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে যে ব্যাংকগুলো মাস্টার কার্ড ভালো সুযোগ সুবিধা দেয় তন্মধ্যে ডাচ বাংলা ব্যাংক অন্যতম।এখন আপনি যদি কোনো ব্যাংকের মাস্টার কার্ড নিতে চান তবে অবশ্যই আগে আপনাকে জানতে হবে কোন ব্যাংকের মাস্টার কার্ডটি অধিক ভালো। আজকের আর্টিকেলে আপনাদেরকে ডাচ বাংলা ব্যাংক মাস্টার কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করব।
আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব ডাচ বাংলা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা,ডাচ বাংলা ব্যাংক মাস্টার কার্ড ,ডাচ বাংলা ব্যাংক ডেবিট কার্ড বা টাকা পে কার্ড ,ডাচ বাংলা ব্যাংক ডেবিট কার্ড বা টাকা পে কার্ড সুবিধা ,ডাচ বাংলা ব্যাংক ডেবিট কার্ড চার্জ,ডাচ বাংলা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড কি বা ডাচ বাংলা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড বলতে কি বোঝায় .
ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড এর মধ্যে পার্থক্য
, ডাচ বাংলা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড প্রকারভেদ ,এছাড়াও আমরা আরো জানবো ডাচ বাংলা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের সুবিধাসমূহ কি কিএবং ডাচ বাংলা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের অফার ও চার্জ সমূহ ,ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাস্টার কার্ড পাওয়ার নিয়ম এবং কার্ডটি পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কেও বিস্তারিত জানবো আজকের এই আর্টিকেলে।
এক পলকে
ডাচ বাংলা ব্যাংক ডেবিট কার্ড বা টাকা পে কার্ড সুবিধা
Dutch Bangla ব্যাংক রিসেন্টলি লঞ্চ করেছে টাকা পে কার্ড। এই কার্ডটি যারা ইতিমধ্যে ইউজ করতেছেন অথবা যারা nexus কার্ড টা ইউজ করতেছেন সেই কার্ডের তুলনায় কিন্তু টাকা পে কার্ড এর ফিচারস টা অনেক ভালো এবং আপনি ব্যবহারেও অনেকটা সুবিধা পেয়ে থাকবেন ।
এই যে টাকা পে কার্ড এই কার্ডটা চাইলেই কিন্তু ডাচ-বাংলা ব্যাংকের যেকোনো একাউন্টের গ্রাহক নিতে পারবে।যাদের একাউন্ট নাম্বার ২৫৭ বা ১৫৮ থেকে শুরু হোক বা ১৫৭ থেকে শুরু হোক এই একাউন্টগুলো থেকে আপনি এক দিনে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন এবং এই একাউন্টে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা জমা থাকতে হবে এবং ১৫৮ যে অ্যাকাউন্টটা এই অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ 80 হাজার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন এবং এই একাউন্টে সর্বনিম্ন ৫০০০ টাকা জমা থাকতে হবে।
এই অ্যাকাউন্ট থেকে আপনি যেমন ভিসা বা মাস্টার কার্ড নিতে পারবেন তেমনি নেক্সাস কার্ডের পরিবর্তে আপনি টাকা পে কার্ডটিও নিতে পারেন এবং এই যে টাকা পে কার্ডটা রয়েছে সেটি দ্বারা আপনারা চাইলে ডাচ বাংলা ব্যাংক সহ যেকোনো ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।সে ক্ষেত্রে আপনার তুলনামূলক খরচ টাও অনেক কম পড়বে ।
যাদের নতুন একাউন্ট ডাচ বাংলা ব্যাংকে তারা যদি টাকা পে কার্ডটা নেয় সেক্ষেত্রে তাদের ইস্যু ফি দিতে হবে না।তবে যারা মাস্টার কার্ড ভিসা কার্ড বা নেক্সাস কার্ড ব্যবহার করছেন তারা যদি এই কার্ডগুলোর পরিবর্তে টাকা পে কার্ড ইউজ করতে চান সেক্ষেত্রে ডাচ বাংলা ব্যাংক রিপ্লেসমেন্ট বাবদ একটা ফি নিতে পারে।এই টাকা পে কার্ডটি আপনি নেক্সাস অ্যাপের সাথেও এড করতে পারবেন ।এই টাকা পে কার্ডটি এনপি এসপি নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত থাকবে।
এছাড়া এই কার্ড দ্বারা QR কোড পেমেন্ট করতে পারবেন।
দোকানে বা শপে কিউ আর কোড ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন।মোবাইল বা ডিভাইসে লেনদেন করা যাবে। প্রতিবার লেনদেনে আপনাকে ওটিপি বা পিন দিয়ে নিশ্চিত করা হবে।এতে আপনি অতিরিক্ত তথ্য নিরাপত্তা পাচ্ছেন অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই পেমেন্ট করতে পারবেন এবং এটি দ্বারা ছোট বড় সব ধরনের লেনদেন করা যাবে।
ডাচ বাংলা ব্যাংক ডেবিট কার্ড প্রকারভেদ
- এজেন্ট ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড
- নেক্সাস ডেবিট কার্ড
- ভিসা ডেবিট কার্ড
- মাস্টার ডেবিট কার্ড
ডাচ বাংলা ব্যাংক ডেবিট কার্ড চার্জ
এজেন্ট ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড এর ক্ষেত্রে প্রথমে একাউন্ট করে এক বছরের মধ্যে কার্ডটি নিলে কোন চার্জ দিতে হয় না। তবে পরবর্তীতে এজেন্ট ব্যাংকিং বাৎসরিক চার্জ ২৩০ টাকা এবং এটিএম চার্জ ১১৫ টাকা অর্থাৎ টোটাল ৩৪৫ টাকা বছরে একবার চার্জ হয়।
নেক্সাস ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে বাৎসরিক চার্জ ৪৬০ টাকা এবং এটিএম নেটওয়ার্ক চার্জ২৩০ টাকা অর্থাৎ মোট বাৎসরিক চার্জ ৬৯০ টাকা।ভিসা ডেবিট কার্ড এর ক্ষেত্রে বাৎসরিক চার্জ ৮৬২.৫ টাকা এবং এটিএম নেটওয়ার্ক চার্জ ২৩০ টাকা অর্থাৎ টোটাল বাৎসরিক চার্জ ১০৯২.৫ টাকা।মাস্টার ডেবিট কার্ডের চার্জ ভিসা ডেবিট কার্ডের চার্জের অনুরূপ । ডাচ বাংলা ব্যাংক ডেবিট কার্ড বা টাকা পে কার্ডের জন্য রিপ্লেসমেন্ট বাবদ একটা ফি নিতে পারে ৪৬০ টাকা এবং এক বছর পরেও এর রিপ্লেসমেন্ট ৪৬০ টাকা ই হবে।
তবে যারা মাস্টার কার্ড ভিসা কার্ড বা নেক্সাস কার্ড ব্যবহার করছেন তারা যদি এই কার্ডগুলোর পরিবর্তে টাকা পে কার্ড ইউজ করতে চান সেক্ষেত্রে ডাচ বাংলা ব্যাংক রিপ্লেসমেন্ট বাবদ একটা ফি নিতে পারে ৪৬০ টাকা এবং এক বছর পরেও এর রিপ্লেসমেন্ট ৪৬০ টাকা ই হবে।এই কার্ডটি ইউজ করে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করলে সেক্ষেত্রে কোন চার্জ কাটবেনা একদম ফ্রি তবে অন্য ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করলে একটা নির্দিষ্ট চার্জ কাটবে। প্রতি ট্রানজেকশনে ১৫ টাকা কাটবে।
ডাচ বাংলা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সুবিধা
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের পার্টনারড আউটলেটে ইন্সটা পে তে অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই ইএমআই ফেসিলিটি অথবা ০% পার্সেন্ট ইন্টারেস্টে ১৩০০ + ব্র্যান্ড শপে ০৩ থেকে সর্বোচ্চ ৩৬ মাসের কিস্তিতে বিল পরিশোধের সুযোগ পাবেন।এছাড়াও দেশজুড়ে ১৮০০০DBBL pos ও ৩০০০+ ই-কমার্স সাইটে রয়েছে সর্বোচ্চ ৩০% পর্যন্ত ডিস্কাউন্টে কেনাকাটার সুবিধা। চেকের বিকল্প হিসেবে চার্জ ছাড়াই ক্রেডিট কার্ড লিমিটের ৫০% পর্যন্ত নগদ উত্তোলন করতে পারবেন।
কিন্তু সে ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১০০০ টাকার বিপরীতে ৫০ পয়সা ইন্টারেস্ট হিসেবে প্রদান করতে হবে এর মাধ্যমে মাসিক ১.৫% বা বার্ষিক ১৮ শতাংশ হারে ফান্ড ট্রান্সফার করা ছাড়াও কার্ড হতে রকেট নগদ বিকাশে এডমানি করার সুবিধা রয়েছে।
ইজি পে, ইজি লোন ও ইজি বাই করার সুবিধা , বাংলাদেশের টপ ৫ তারকা হোটেল গুলোতে থাকছে বাই ওয়ান গেট থ্রি সুবিধা ,ডাচ বাংলা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে ইন্সুরেন্স সুবিধা রয়েছে এবং এই কার্ডের লিমিট ব্যবহারে রিওয়ার্ড পয়েন্টস এর ফেসিলিটি উপভোগ করতে পারবেন।এই সুবিধা সমূহ ছাড়াও ডাচ বাংলা ব্যাংক আরো অন্যন্য সুবিধাও প্রদান করে থাকে।
ডাচ বাংলা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড প্রকারভেদ
- ক্লাসিক গোল্ড কার্ড
- ভিসা মাস্টার গোল্ড কার্ড
- প্ল্যাটিনাম কার্ড
- টাইটেনিয়াম কার্ড
- ভিসা সিগনেচার
- মাস্টার কার্ড world
ডাচ বাংলা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড চার্জ
ক্লাসিক বা গোল্ড ক্রেডিট কার্ড এর ক্ষেত্রে আপনার লিমিট যদি ১০ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার নিচে থাকে সে ক্ষেত্রে ৫৭৫ টাকা বাৎসরিক চার্জ হয় প্রথম বছর ফ্রি দ্বিতীয় বছর থেকে চার্জ ধার্য করা হয়।আবার ক্লাসিক বা গোল্ড ক্রেডিট কার্ড এর ক্ষেত্রে আপনার লিমিট যদি পঞ্চাশ হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ টাকার নিচে থাকে সে ক্ষেত্রে আপনার বাৎসরিক চার্জ হবে ৭৪৭.৫ টাকা।
ভিসা মাস্টার গোল্ড কার্ড এর ক্ষেত্রে লিমিট যদি ৫০,০০০ থেকে ১ লক্ষ টাকার নিচে হয় সেক্ষেত্রে বাৎসরিক চার্জ হবে ৭৪৭.৫ টাকা আবার ভিসা মাস্টার গোল্ড কার্ড এর ক্ষেত্রে লিমিট যদি দেড় লক্ষ থেকে 2 লক্ষ টাকা নিচে হয় সেক্ষেত্রে বাৎসরিক চার্জ হবে ১১৫০ টাকা ,আবার ভিসা মাস্টার গোল্ড কার্ড এর ক্ষেত্রে লিমিট যদি২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকার নিচে হয় সেক্ষেত্রে বাৎসরিক চার্জ হবে ১৭২৫ টাকা।
ভিসা প্লাটিনাম কার্ডের যেটা লিমিট ৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা হয় তার বাৎসরিক চার্জ হয় ৫৭৫০ টাকা ব্যাট সহ, আবার ভিসা প্লাটিনাম কার্ডে লিমিট ১০ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ মধ্যে হলে এর বাৎসরিক চার্জ হয় ৬৯০০ টাকা।একইভাবে টাইটানিয়াম কার্ডের ক্ষেত্রে লিমিট যদি এক লক্ষ থেকে দুই লক্ষ টাকার মধ্যে হয় তবে বাৎসরিক চার্জ ৩৪৫০ টাকা আবার কার্ডের ক্ষেত্রে লিমিট যদি ২ লক্ষ থেকে ৫ লি ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে হয় তবে বাৎসরিক চার্জ হয় ৪ হাজার ৬০০ টাকা।
ডাচ বাংলা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড চার্জ টেবিল আকারে
কার্ডের ধরন | ক্রেডিট লিমিট (টাকা) | বাৎসরিক চার্জ (টাকা) |
---|---|---|
ক্লাসিক / গোল্ড | ১০,০০০ – ৫০,০০০ | ৫৭৫ |
ক্লাসিক / গোল্ড | ৫০,০০০ – ১,০০,০০০ | ৭৪৭.৫ |
ভিসা / মাস্টার গোল্ড | ৫০,০০০ – ১,০০,০০০ | ৭৪৭.৫ |
ভিসা / মাস্টার গোল্ড | ১,৫০,০০০ – ২,০০,০০০ | ১১৫০ |
ভিসা / মাস্টার গোল্ড | ২,০০,০০০ – ৩,০০,০০০ | ১৭২৫ |
ভিসা প্লাটিনাম | ৫,০০,০০০ – ১০,০০,০০০ | ৫৭৫০ |
ভিসা প্লাটিনাম | ১০,০০,০০০ – ২৫,০০,০০০ | ৬৯০০ |
টাইটানিয়াম | ১,০০,০০০ – ২,০০,০০০ | ৩৪৫০ |
টাইটানিয়াম | ২,০০,০০০ – ৫,০০,০০০ | ৪৬০০ |
ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাস্টার কার্ড পাওয়ার নিয়ম
আপনি যদি ডাচ বাংলা ব্যাংকে একটি একাউন্ট করতে চান তাহলে আপনাকে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। এই কার্ডটি পেতে আপনাকে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে অতিসহজ কিছু প্রসেস সম্পন্ন করে ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাস্টারকার্ডটি পেতে হবে।
ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাস্টারকার্ডটি পাওয়ার নিয়মাবলী সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো -প্রথমে আপনাকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের কোনো ব্রাঞ্চে বা শাখায় যোগাযোগ করতে হবে।ব্রাঞ্চে থাকা কর্মকর্তাদের জানাতে হবে আপনি ঠিক কোন মাস্টারকার্ডটি গ্রহন করতে চান। অতঃপর কার্ডটি পেতে আপনাকে একটি ফর্ম দেওয়া হবে এবং ফরমটি আপনাকে পূরণ করতে হবে।
ফর্ম পূরণ করার পর আপনার কাছে বেশ কিছু কাগজপত্র চাইবে উক্ত নথিপত্র সমূহ ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে সাবমিট করুন।
কার্ডটি পেতে আপনাকে কিছু টাকা প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনীয় টাকা প্রদান করুন এবং কার্ডটি গ্রহণ করুন।
ডাচ বাংলা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা
- পূরণকৃত ফর্ম /আবেদন পত্র
- জাতীয় পরিচয়পত্র /ড্রাইভিং লাইসেন্স/পাসপোর্ট
- ট্যাক্স রিটার্ন কপি /TIN সার্টিফিকেট
- দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- বেতন স্লিপ/আয়কর সংক্রান্ত তথ্য/ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
I am Hasina Khatun, working in a private bank in Bangladesh and also writing for this website in my free time.